Teachers TET Data: গত ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষকদের টেট (TET) সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেছিল। সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র সরকার। দেশের বিভিন্ন রাজ্য সরকারের কাছে শিক্ষকদের চাকরি ও টেট যোগ্যতা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠাল কেন্দ্র। এই নির্দেশের ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকে আগামী ১৬ই জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, টেট সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় কতজন শিক্ষক প্রভাবিত হয়েছেন এবং তাদের বর্তমান স্থিতি কী, তা জানতেই এই উদ্যোগ।
প্রশাসনিক ও নীতিগত তথ্যের রূপরেখা
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যগুলিকে প্রথমেই তাদের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের নিয়োগ ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামো স্পষ্ট করতে হবে। রিপোর্টে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করতে হবে তার মধ্যে রয়েছে:
- নিয়োগকারী সংস্থা: প্রাথমিক (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) এবং উচ্চ প্রাথমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) স্তরে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব কোন দপ্তরের বা কমিশনের হাতে রয়েছে, তার নাম ও পদমর্যাদা।
- যোগ্যতার মাপকাঠি: উভয় স্তরে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও প্রশিক্ষণগত যোগ্যতা কী কী।
- পদোন্নতির নিয়ম: শিক্ষকদের কেরিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম (CAS) বা পদোন্নতির শর্তাবলী কী, সে বিষয়েও স্বচ্ছ ধারণা দিতে হবে।
শিক্ষকদের পরিসংখ্যান ও ২০১১ সালের গুরুত্ব
রিপোর্টের মূল অংশটি তৈরি হবে শিক্ষকদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিয়ে। এখানে বয়স অনুযায়ী (২১-২৫ বছর থেকে শুরু করে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে পর্যন্ত) স্ল্যাব তৈরি করে তথ্য সাজাতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২০১১ সালকে একটি মানদণ্ড বা ‘কাট-অফ’ ইয়ার হিসেবে ধরা।
এনসিটিই (NCTE) ২০১১ সালে টেট বাধ্যতামূলক করার আগে এবং পরে নিয়োগের চিত্রটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে বলা হয়েছে:
- ২০১১-এর আগে নিয়োগ: এনসিটিই-র নিয়ম চালু হওয়ার আগে কতজন শিক্ষক চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।
- ২০১১-এর পরে নিয়োগ: নতুন নিয়ম চালু হওয়ার পর কতজন শিক্ষক নিয়োগপত্র পেয়েছেন।
টেট যোগ্যতার বিস্তারিত খতিয়ান
চাকরিরত শিক্ষকদের মধ্যে কতজন টেট উত্তীর্ণ, তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চেয়েছে কেন্দ্র। এটি দুটি ভাগে বিভক্ত:
১. প্রাক-২০১১ নিয়োগ: যারা ২০১১ সালের আগে চাকরিতে ঢুকেছেন, কিন্তু বর্তমানে টেট (CTET বা রাজ্য স্তরের TET) পাস করেছেন, তাদের সংখ্যা।
২. ২০১১-পরবর্তী নিয়োগ: যারা ২০১১ সালের পরে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং নিয়ম মেনে টেট পাস করেছেন, তাদের পরিসংখ্যান।
এছাড়াও, যদি কোনও শিক্ষককে টেট পাস করা থেকে বিশেষ ছাড় বা ‘অব্যাহতি’ (Exemption) দেওয়া হয়ে থাকে, তবে কতজনকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং তার পিছনে কী যুক্তি বা কারণ রয়েছে, তা আলাদা কলামে ব্যাখ্যা করতে হবে। প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক—উভয় ক্ষেত্রেই একই ফরম্যাটে এই তথ্য আগামী ১৬ই জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রের কাছে পেশ করতে হবে রাজ্যকে।














