Tet Mandatory Update: সম্প্রতি ইন-সার্ভিস বা চাকুরীরত শিক্ষকদের জন্য টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (TET) বাধ্যতামূলক করা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার শিক্ষকের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—চাকরি কি তবে সংকটে? এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন্দ্রের পরিকল্পনার কিছুটা আভাস পাওয়া গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সরকারের অবস্থান
শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, চাকুরীরত শিক্ষকদের টেট পাস সংক্রান্ত বিষয়ে মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট একটি নির্দিষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। তবে, সরকার এটাও অনুধাবন করছে যে এর ফলে বহু শিক্ষকের কর্মজীবন প্রভাবিত হতে পারে। তাই আদালতের নির্দেশকে সম্মান জানিয়েও কীভাবে শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেই বিষয়ে সরকার এখন গভীর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।
সমাধানের খোঁজে ব্যাপক আলোচনা
বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় কেন্দ্র সরকার তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সূত্র বের করার জন্য বিভিন্ন স্তরে জোরদার আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:
- রাজ্য সরকারের ভূমিকা: যেহেতু শিক্ষা বিষয়টি যৌথ তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তাই কেন্দ্র সরকার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। রাজ্যের মতামতকে এই ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
- শিক্ষক ও সংগঠনের মতামত: দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক সংগঠন এবং প্রভাবিত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পাঠানো পরামর্শগুলি খতিয়ে দেখছে মন্ত্রক।
- বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইনি বিশেষজ্ঞদের থেকেও মতামত নেওয়া হচ্ছে যাতে পরবর্তী পদক্ষেপ আইনি ও মানবিক উভয় দিক থেকেই সঠিক হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আশ্বাস
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষকদের জন্য আশার আলো দেখা গিয়েছে। তিনি প্রভাবিত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই। সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং শিক্ষকদের বাস্তব সমস্যা—উভয়কেই মাথায় রেখে একটি মধ্যপন্থা বা সঠিক রাস্তা (Roadmap) খুব শীঘ্রই বের করবে। সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে কারোর প্রতি অবিচার না হয়।
শিক্ষকদের এখন কেন্দ্রের পরবর্তী নির্দেশিকার দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে, তবে শিক্ষামন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া নিঃসন্দেহে তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।














