উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ‘শান্তি বার্তার’ রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ইরান। সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, আগামী পাঁচদিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে কোনো হামলা চালানো হবে না। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ইসফাহান ও খোরমশহরের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল ইরান (Trump-Iran Conflict)। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসফাহান (Isfahan) প্রদেশের একটি বড় গ্যাস উৎপাদন সংস্থায় আছড়ে পড়ে একের পর এক বোমা। হামলায় সংস্থাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি খোরমশহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েল বাহিনী বলে অভিযোগ তেহরানের। গ্যাস পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় খোরমশহরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। হামলার প্রভাব পড়েছে সংলগ্ন বসতি এলাকাতেও।
ট্রাম্পের দাবির বিপরীত চিত্র
সোমবারই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই কারণেই মানবিক খাতিরে পাঁচদিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি পালটা দাবি করেছে, আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ার পরেই এই হামলা তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড়ো প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
নিশ্চুপ আমেরিকা ও ইজরায়েল
ইরানের এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আভিভ— কোনো পক্ষই সরকারিভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ইজরায়েল বা আমেরিকা কেউই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া নিয়ে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, এই হামলা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।














