উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকা ইরানে হামলা চালানোর ৪৮ ঘণ্টা আগে এক অতি-গোপন ফোনালাপই কি বদলে দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র? সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে (Ayatollah Ali Khamenei) লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন ড্রোন হামলার নেপথ্যে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Trump-Netanyahu Call)।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) শুরু হওয়ার ঠিক দু’দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন নেতানিয়াহু। সেই সময় মার্কিন প্রশাসন ইরানে হামলার সবুজ সংকেত দিলেও, অভিযানের সময় ও পরিধি নিয়ে সংশয় ছিল। নেতানিয়াহু তাঁর হাতে থাকা নতুন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্পকে বোঝান যে, খামেনেই ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এই মুহূর্তে অত্যন্ত ‘অরক্ষিত’ অবস্থায় আছেন। তিনি সাফ জানান, খামেনেইকে খতম করার এর চেয়ে বড় সুযোগ আর কখনও আসবে না।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি ছিল দ্বিমুখী। প্রথমত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু শক্তিকে চিরতরে স্তব্ধ করা। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার জন্য তেহরানকে কঠিন শিক্ষা দেওয়া। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, খামেনেইর একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক এগিয়ে আনা হয়েছে। এই সুযোগটিকেই নেতানিয়াহু ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরেন, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সেই বিধ্বংসী হামলায় খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন খোদ ট্রাম্প। যদিও নেতানিয়াহু জনসমক্ষে দাবি করেছেন যে, ট্রাম্পকে প্রভাবিত করার সাধ্য কারও নেই, তবুও পর্দার পিছনের এই ফোনালাপ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন আরও দাউদাউ করে জ্বলছে। ইরানের পালটা হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিশ্বজুড়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। আন্তর্জাতিক বাজারে হুহু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। একটি ফোনালাপ একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটাতে পারলেও, বিশ্বকে এক অস্থির যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।














