Trump Tariff India: ভেনেজুয়েলার পর এবার ভারতের পালা? তেলের জন্য ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি মোদী সরকারকে

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Trump Tariff India: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এবং নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনার পর বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। এই সাফল্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস বর্তমানে তুঙ্গে এবং তিনি নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে করছেন। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিদেশ নীতি, বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

ভারতের ওপর বড় শুল্ক বৃদ্ধির আশঙ্কা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর নতুন করে বড় ধরনের শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের হুমকি দিয়েছেন। মূল বিরোধের জায়গাটি হলো রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা। ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারত যদি এই তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।

  • বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পণ্যের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে রেখেছে, যা ট্রাম্পের মতে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।
  • ভবিষ্যৎ হুমকি: ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে এই শুল্কের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি করা হতে পারে।
  • কূটনৈতিক বার্তা: ট্রাম্পের মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খুব ভালোভাবেই অবগত যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বর্তমান পরিস্থিতিতে খুশি নন। যতক্ষণ না তেল কেনা বন্ধ হচ্ছে, শুল্কের হার বাড়তেই থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্কিন তেল লবি এবং নতুন আইনের প্রস্তুতি

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাবের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে মার্কিন তেল লবি। লিন্ডসে গ্রাহামের মতো রাজনীতিবিদরা মূলত মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষায় কাজ করছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলা বা কিউবার মতো দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণে এনে বিশ্ববাজারে মার্কিন তেলের একাধিপত্য বিস্তার করা এবং ডলারের মান ধরে রাখা।

এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন ‘ট্যারিফ বিল’ আনার প্রস্তুতি চলছে। এই বিল পাস হলে ট্রাম্প যেকোনো দেশের ওপর ০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবেন।

অন্যান্য দেশের প্রতি ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

শুধু ভারত নয়, ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশ। তাঁর আচরণকে অত্যন্ত ‘অহংকারী’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

  1. কিউবা: ট্রাম্প মনে করেন ভেনেজুয়েলার পর কিউবাও পতনের মুখে এবং তিনি দেশটির ওপর চাপ আরও বাড়াতে চান।
  2. ইরান: ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্পের।
  3. মেক্সিকো ও কলম্বিয়া: এই দুই দেশের নেতাদেরও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প।
  4. গ্রিনল্যান্ড: মার্কিন নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড দখলের বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

উপসংহারে বলা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। তাঁর এই আগ্রাসী নীতি আগামী দিনে ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিতে বড় পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন