Union Budget 2026: পুরোনো কর ব্যবস্থা কি পুরোপুরি উঠে যাচ্ছে? ৮০ শতাংশ করদাতা নতুন নিয়মে, বড় ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Union Budget 2026: কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭ পেশ হতে আর মাত্র তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। প্রতিবারের মতোই এবারও করদাতাদের নজর আটকে রয়েছে আয়কর সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে। তবে এবারের বাজেটের আগে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে জোরালো হয়ে উঠেছে, তা হলো—সরকার কি এবার পুরোনো কর ব্যবস্থা (Old Tax Regime) পুরোপুরি বাতিল করে দেবে? নাকি করদাতারা যেভাবে দলে দলে নতুন ব্যবস্থাকে বেছে নিচ্ছেন, তাতে পুরোনো ব্যবস্থাটি নিজেই ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে?

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, আগামী বাজেটে কর কাঠামো নিয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকতে পারে।

কেন পুরোনো কর ব্যবস্থার আকর্ষণ কমছে?

গত কয়েক বছরে সরকার ধারাবাহিকভাবে নতুন কর কাঠামোকে (New Tax Regime) ঢেলে সাজিয়েছে। এর ফলে পুরোনো ব্যবস্থার তুলনায় নতুন ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। নতুন কর কাঠামোয় স্ল্যাব রেট পরিবর্তনের ফলে করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। সর্বশেষ উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৫ শতাংশ করদাতা ইতিমধ্যেই নতুন কর কাঠামো বেছে নিয়েছিলেন। গত বাজেটে স্ল্যাব রেটে আরও পরিবর্তনের পর, এই সংখ্যাটি বর্তমানে ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যানও এই পরিবর্তনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৯.১৯ কোটি আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে এবং ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা ১০ কোটি ছোঁবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বাজেটে নতুন কাঠামোয় ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কে কার্যত করমুক্ত করার পর থেকে সাধারণ মানুষের ঝোঁক এই সহজ ব্যবস্থার দিকেই।

সরলীকরণ ও ঝঞ্ঝাটহীন ব্যবস্থা: সরকারের নীতি

নতুন কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সরলতা। করদাতাদের এখন আর বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রমাণপত্র জোগাড় করতে হয় না বা অডিটের সময় নথিপত্র দেখানোর ঝামেলায় পড়তে হয় না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী নীতি হলো কর ব্যবস্থাকে ছাড়মুক্ত (Deduction-free) করা। এটি একদিকে যেমন করদাতাদের জন্য রিটার্ন ফাইল করা সহজ করে তোলে, তেমনি আয়কর দপ্তরের জন্যও প্রশাসনিক কাজ কমিয়ে দেয়। ভুয়ো বা অতিরঞ্জিত বিনিয়োগের দাবি কমে যাওয়ায় আইনি জটিলতার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

পুরোনো ব্যবস্থা কি এখনই বন্ধ হবে?

এত কিছুর পরেও, পুরোনো কর ব্যবস্থা এখনই সম্পূর্ণ বাতিল করা সরকারের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত হবে না। এর পেছনে রয়েছে ভারতের দীর্ঘদিনের সঞ্চয় সংস্কৃতি।

  • সঞ্চয়ের অভ্যাস: ভারতের মধ্যবিত্ত সমাজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা মূলত প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), জীবন বিমা এবং গৃহঋণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে করছাড় তুলে নিলে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় এবং অবসরকালীন পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
  • মানসিক ও আর্থিক প্রভাব: অনেক বেতনভুক করদাতার মাসিক খরচ কর বাঁচানোর বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে সাজানো থাকে। নতুন ব্যবস্থায় কর কম লাগলেও, বিনিয়োগের ওপর ছাড় না পাওয়াকে অনেকে ‘আর্থিক ক্ষতি’ হিসেবে দেখেন।
  • ভারসাম্য রক্ষা: একটি দ্বৈত কর ব্যবস্থা সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নতুন ব্যবস্থা যেখানে ব্যয় বা কনজাম্পশন বাড়াতে সাহায্য করে, পুরোনো ব্যবস্থা সেখানে সঞ্চয়কে উৎসাহিত করে।

ভবিষ্যৎ কী? ধীরে ধীরে বিদায়, আকস্মিক ইতি নয়

সরকারের বর্তমান কৌশল হলো ‘চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং উৎসাহিত করা’। নতুন কর ব্যবস্থাকে ‘ডিফল্ট’ অপশন করা এবং এতে করের হার কমানো—সবই একটি পরিকল্পিত পরিবর্তনের অংশ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাজেট ২০২৬-এ সরকার সম্ভবত পুরোনো কর ব্যবস্থা বাতিল করবে না। বরং নতুন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে, যাতে পুরোনো ব্যবস্থাটি সময়ের সাথে সাথে নিজেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। কর ব্যবস্থা যত সরল হবে এবং করের হার কমবে, পুরোনো ব্যবস্থার অস্তিত্ব কেবল খাতায়-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন