Union Budget 2026: আসন্ন ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬-কে সামনে রেখে ভারতের মধ্যবিত্ত সমাজের প্রত্যাশার পারদ ক্রমশ চড়ছে। তবে এবারের দাবি কোনো আকাশকুসুম কল্পনা বা চমকপ্রদ উপহার নয়, বরং নিত্যদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা এবং ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখার আরজি। বেতনভুক কর্মচারী থেকে শুরু করে স্বনিযুক্ত পেশাদার—সকলের একটাই লক্ষ্য: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদিও বলছে সাধারণ মুদ্রাস্ফীতি বা হেডলাইন ইনফ্লেশন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। খাদ্যদ্রব্য, জ্বালানি, এলপিজি (LPG) এবং অন্যান্য ইউটিলিটি পরিষেবার খরচ যে হারে বেড়েছে, তা সাধারণ মানুষের আয়ের বৃদ্ধির হারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এর ফলে সংসারের বাজেট মেলাতে গিয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে সঞ্চয়ে হাত দিচ্ছেন এবং অন্যান্য শৌখিন খরচ কমিয়ে ফেলছেন। এই পরিস্থিতিতে বাজেটে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি যা সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে থাকা টাকার পরিমাণ বা ‘ডিসপোজিবল ইনকাম’ বাড়াতে সাহায্য করবে।
আয়কর কাঠামো ও স্ল্যাব পরিবর্তনের দাবি
আয়করদাতাদের দীর্ঘদিনের দাবি কর কাঠামোর সরলীকরণ এবং যৌক্তিকীকরণ। অতীতে ১২ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে করমুক্ত সীমার পরিবর্তন কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বর্তমান বাজারের নিরিখে তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন অনেকে। করদাতাদের প্রধান প্রত্যাশাগুলি হলো:
- ৩০% স্ল্যাবের পুনর্বিবেচনা: সর্বোচ্চ করের হার বা ৩০ শতাংশ স্ল্যাবটি আরও উচ্চ আয়ের স্তরে নিয়ে যাওয়া, যাতে মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কমে।
- ধারা ৮৭এ (Section 87A): এই ধারার অধীনে রিবেট বা ছাড়ের পরিধি আরও বাড়ানো।
- সঞ্চয়ে উৎসাহ: সঞ্চয়ের ওপর কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি করা, যা মানুষকে ভবিষ্যতের জন্য অর্থ জমাতে উৎসাহিত করবে।
- দ্রুত রিফান্ড এবং পুরনো ও নতুন কর কাঠামোর মধ্যে ধোঁয়াশা কমিয়ে প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
আবাসন ও গৃহঋণ: বাস্তবতা বনাম নিয়ম
নিজস্ব ছাদের স্বপ্ন দেখা মধ্যবিত্তের জন্য আবাসন খাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে “অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং” বা সাশ্রয়ী আবাসনের যে সংজ্ঞা সরকারের খাতায় রয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবের মিল খুব কম। বর্তমানে ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের ফ্ল্যাটকে এই বিভাগে রাখা হয়। কিন্তু মেট্রো শহরগুলিতে এই দামে বাসযোগ্য ফ্ল্যাট পাওয়া একপ্রকার অসম্ভব।
আবাসন শিল্প এবং গৃহঋণ গ্রহীতারা চাইছেন:
- মেট্রো শহরগুলিতে সাশ্রয়ী আবাসনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৭৫ থেকে ৯৫ লক্ষ টাকা করা হোক।
- গৃহঋণের সুদের ওপর কর ছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হোক।
- শহরাঞ্চলের গরিব ও মধ্যবিত্তদের জন্য ‘PMAY-U 2.0’-এর মতো প্রকল্পগুলিতে আরও গতি আনা হোক।
বাজেট ২০২৬-এর কাছে মানুষের চাওয়া খুবই স্পষ্ট—তাঁরা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি চান না। তাঁরা চান এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বস্তিতে রূপান্তরিত করতে পারবে। জিএসটি (GST) হারের সামঞ্জস্য এবং কর ছাড়ের সঠিক বিন্যাসই পারে মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফোটাতে।














