Voter List Discrepancy: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন (ECI)। শনিবার নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ তালিকা আপলোড করেছে। এই তালিকায় সেই সমস্ত ভোটারদের নাম রয়েছে, যাদের তথ্যে ‘SIR লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে।
রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা অসঙ্গতির তালিকায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগের বিষয়।
‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের অসঙ্গতি আসলে কী?
অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বিষয়টি আসলে কী? সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ভোটার তালিকায় থাকা তথ্যের সঙ্গে বাস্তব যুক্তির অমিল। নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বংশপরম্পরা বা পারিবারিক লিঙ্কিং করার সময় বেশ কিছু অদ্ভুত তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে প্রধান দুটি কারণ হলো:
- পিতা-মাতার নামে গরমিল: ভোটার ও তাঁর পিতা বা মাতার নামের মধ্যে বড়সড় অমিল পাওয়া।
- বয়সের অবাস্তব ব্যবধান: একজন ভোটার এবং তাঁর পিতা বা মাতার বয়সের পার্থক্য যদি ১৫ বছরের কম হয়, অথবা ৫০ বছরের বেশি হয়—তবে সেটিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তিসঙ্গতভাবে পিতা-মাতা ও সন্তানের বয়সের যে পার্থক্য থাকা উচিত, তথ্যে তা প্রতিফলিত হচ্ছে না।
সাধারণ মানুষ কোথায় দেখতে পাবেন এই তালিকা?
সুপ্রিম কোর্ট গত ১৯ জানুয়ারি একটি নির্দেশে জানিয়েছিল, অবিলম্বে এই অসঙ্গতিপূর্ণ নামের তালিকা প্রকাশ্যে আনতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (District Electoral Officers) কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে এই তালিকা ডাউনলোড করবেন। এরপর, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই তালিকাগুলি রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লকের অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসগুলিতে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, আপনার এলাকায় পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে গেলেই আপনি দেখতে পাবেন আপনার বা আপনার পরিবারের কারও নাম এই তালিকায় আছে কিনা।
প্রযুক্তিগত সমস্যা ও কমিশনের তৎপরতা
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে গিয়ে বেশ কিছু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কমিশনকে। বিশেষ করে বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-দের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার না পৌঁছানোয় কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছিল। একটি বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত পর্যন্ত অনেক BLO-ই এই সফটওয়্যার হাতে পাননি, ফলে সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করা নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
তবুও, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে শনিবারের মধ্যেই কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। এর ফলে রাজ্যের বিশাল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি এবার আরও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা যেন স্থানীয় ব্লক বা পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন যে তাঁদের তথ্যে কোনও ভুল আছে কিনা।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে ১.২৫ কোটি ভোটারের নাম এই তালিকায় উঠে এসেছে, সেখানে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভুয়ো বা ত্রুটিপূর্ণ ভোটার বাদ দিতে এই ‘ফিল্টারিং’ বা যাচাই প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে, নিজের এবং পরিবারের ভোটার তথ্য যাচাই করে নেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।














