এসআইআর (SIR) ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও প্রশ্নের উদ্রেক রয়েছে, আর এদিকে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে প্রক্রিয়ার শুনানি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ রয়েছে এমন প্রায় ৯৫ লক্ষ ভোটারের শুনানি শুরু হবে। নাম, বয়স এবং পারিবারিক তথ্যের সঙ্গে পুরনো নথির অমিলের কারণে এই ভোটারদের শোনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে কমিশন তালিকায় তথ্যের সঙ্গতি যাচাই করতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষ ভোটারের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে খসড়া তালিকা প্রকাশ করার সময়ে নির্বাচন কমিশন বলেছিলেন খসড়া তালিকা দেখে নিশ্চিত হওয়ার কিছু নেই, শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে অনেককেই সেটাই বাস্তবায়ন হতে চলেছে।
এদিকে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ফর্ম পূরণ করা প্রায় ৯৪ লক্ষ ভোটারের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তথ্যগত অমিল ধরা পড়েছে। মূলত ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাদের অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে তাদের কেই ডাকা হচ্ছে বলে কমিশনের দাবি। তবে এর মধ্যে প্রায় ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার নামের সঙ্গে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে প্রোজেনি ম্যাপিং বা সেলফ ম্যাপিংয়ে ত্রুটি এবং ফর্ম অসম্পূর্ণ জমা দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অসঙ্গতিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এতে সাধারণ মানুষকে শুনানিতে অংশ নিতে হতে পারে। সমস্যা থাকলেও সূত্রের দাবি, উচ্চশ্রেণীর পরিচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায়শই নথি যাচাই করা হয়ে থাকে, তাই তাঁরা সরাসরি এই অসুবিধায় পড়েন না।
এরিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ। নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় এই সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। গোটা জেলায় মিসম্যাচ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষের কাছাকাছি। খুব কম সময়ে এত ভোটারের শুনানি ডাকা থেকে শুরু সবকিছু ঠিকঠাক কলতেও হিমশিম খেতে হবে কমিশনকে।
যদিও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে রাজ্যে শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আরও ২ হাজার মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।বর্তমানে রাজ্যে কাজ করছেন প্রায় ৪,৬০০ জন।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নবান্ন থেকে এসআইআর ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন শুধু বাংলাতেই মাইক্রো অবজার্ভার? কেন অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়ে এসআইআর হয়নি? চারটি রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে তিনটি বিরোধী শাসিত সেখানেই কেন সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়ছে? এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বেআইনি ও অনৈতিকভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।














