WB DA Update: রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪০% ডিএ বকেয়া! কন্টেম্পট মামলা নিয়ে কী জানাল ইউনিটি ফোরাম?

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

WB DA Update: সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরমহলে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে রোপা ২০১৯ (ROPA 2019) অনুযায়ী বকেয়া পাওনা আদতে কতটা মিলবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আইনি অবস্থানের ওপর আলোকপাত করেছেন।

রোপা ২০১৯ ও বকেয়ার বিশাল ফারাক

সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তাতে মূলত রোপা ২০০৯-এর বকেয়া মেটানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো রোপা ২০১৯। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি এবং বঙ্গভবনের কর্মীরা ৫৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে রাজ্যের সাধারণ সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ, রোপা ২০১৯-এর নিরিখে প্রায় ৪০ শতাংশ ডিএ এখনও বকেয়া। ইউনিটি ফোরাম স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায়ের জন্য তারা আদালতের পথেই লড়াই চালিয়ে যাবে।

আইনি পদক্ষেপে ‘তাড়াহুড়ো’ ও বিতর্ক

আদালত অবমাননা বা ‘কন্টেম্পট পিটিশন’ নিয়ে সরকারি কর্মী সংগঠনগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়ার জন্য ৬ই মার্চ, ৩১শে মার্চ এবং ১৫ই এপ্রিল—এই তিনটি সময়সীমা বা ডেডলাইন নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু ইউনিটি ফোরামের মতে, এই তারিখগুলো পেরোনোর আগেই কয়েকটি সংগঠন অতি উৎসাহে বা তাড়াহুড়ো করে সুপ্রিম কোর্টে কন্টেম্পট পিটিশন দাখিল করেছে। দেবপ্রসাদ হালদারের মতে, এই ধরনের “শিশুসুলভ” পদক্ষেপ আখেরে রাজ্য সরকারেরই সুবিধা করে দিতে পারে। সরকার এখন এই পিটিশনের অজুহাত দেখিয়ে আদালতের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে নিতে পারে, যার ফলে বকেয়া পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অকারণে দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কমিটির বর্তমান স্ট্যাটাস

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ-এর সঠিক অঙ্ক কষার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার কথা ছিল। এই কমিটি ২৫ শতাংশ বকেয়া সহ মোট পাওনা নির্ধারণ করবে। কিন্তু সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই কমিটির কোনো সদস্য কলকাতায় আসেননি এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও হয়নি। ফলে, মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আগামী ১৫ই এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে পরবর্তী কী নির্দেশ দেয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন