WBCHSE HS Enrollment: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। পরীক্ষার ঠিক সাত দিন আগে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) সেই সমস্ত পড়ুয়াদের জন্য এক বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে, যারা এখনও পর্যন্ত অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহের জন্য ‘এনরোলমেন্ট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। তবে এই শেষ সুযোগের জন্য একটি বড় অঙ্কের জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শেষ মুহূর্তে পোর্টাল খোলার সিদ্ধান্ত
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ একটি নতুন নির্দেশিকায় জানিয়েছে যে, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতে পরীক্ষার ঠিক প্রাক্কালে ‘এনরোলমেন্ট’ পোর্টালটি পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পোর্টালটি মাত্র তিন দিনের জন্য খোলা থাকবে। সংসদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, কেবলমাত্র সেই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরাই এই সুযোগ পাবে, যারা একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন তো করেছিল কিন্তু অ্যাডমিট কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এনরোলমেন্ট বা ফর্ম ফিলাপ করতে পারেনি।
জরিমানার অঙ্ক ও বিতর্ক
সবচেয়ে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই লেট ফাইন বা জরিমানার পরিমাণ। সংসদের নির্দেশ অনুযায়ী, যে সমস্ত স্কুল এই শেষ মুহূর্তে পড়ুয়াদের নাম নথিভুক্ত করবে, তাদের ছাত্র পিছু ২০০০ টাকা করে জরিমানা বা ‘লেট ফাইন’ জমা দিতে হবে। সংসদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে একাধিক শিক্ষক সংগঠন।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “মানুষের বিপদকে কাজে লাগিয়ে সরকারের টাকা আয়ের এই প্রচেষ্টা ঠিক নয়। যদি সংসদ সত্যিই পড়ুয়াদের উপকার করতে চাইত, তবে আরও কম টাকায় এই সুযোগ দেওয়া যেত।” অন্যদিকে, অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি মনোজ কুমার মণ্ডল বলেন, স্কুলগুলো বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও অনেক পড়ুয়া ও অভিভাবক গুরুত্ব দেননি। এখন এত টাকা জরিমানা নিলে ভুল বার্তা যাবে যে স্কুল কর্তৃপক্ষই হয়তো টাকা নিচ্ছে।
সংসদের যুক্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, টাকা নেওয়া বা জরিমানা করা সংসদের মূল উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়ের মধ্যে যাতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তবে একজন ছাত্রও যাতে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই মানবিক দিকটি আমরা দেখছি।” তিনি মেনে নেন যে, এক্ষেত্রে যেমন কিছু স্কুলের গাফিলতি থাকতে পারে, তেমনই পড়ুয়াদের অসহযোগিতাও একটি বড় কারণ।
প্রসঙ্গত, শিক্ষা সংসদের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ৪০ হাজার পরীক্ষার্থী এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করেছে। কিন্তু বেশ কিছু স্কুল জানিয়েছে তাদের এখনও কিছু প্রক্রিয়া বাকি। মাধ্যমিকের ক্ষেত্রেও গত মাসে একইভাবে শেষ মুহূর্তে পোর্টাল খোলা হয়েছিল, যেখানে ১৯৬৬ জন পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পেয়েছিল। সংসদ আশা করছে, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাকি থাকা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরাও তাদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় বসতে পারবে।














