West Bengal Election: পশ্চিমবঙ্গের আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের ভোটকর্মীরা এবং সাধারণ মানুষ তাকিয়ে আছেন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে—আসন্ন হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন ঠিক কত দফায় সম্পন্ন হবে?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর (CEO West Bengal) অবশ্য চাইছে, ঝক্কি এড়াতে ও প্রশাসনিক সুবিধার্থে এক দফাতেই সম্পূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া মিটিয়ে ফেলতে। এই মর্মে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাবনা নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে দিল্লির নির্বাচন সদন বাস্তব পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভিন্ন পথের কথা ভাবছে।
কমিশনের ভাবনায় তিন দফার নীল-নকশা
দিল্লির নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রস্তাবিত এক দফার বদলে তারা তিন দফায় ভোট করানোর পরিকল্পনা করছে। কমিশনের প্রাথমিক আলোচনায় উঠে আসা এই পরিকল্পনায় ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী রাজ্যকে ভাগ করার কথা ভাবা হয়েছে:
- উত্তরবঙ্গ: এখানকার সমস্ত আসনগুলিতে এক দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা।
- দক্ষিণবঙ্গ: এই অংশের জেলাগুলিকে দুই দফায় ভাগ করে নির্বাচন প্রক্রিয়া চালানো।
মূলত কত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) ভোটের সময় রাজ্যে মজুত থাকবে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই দফার চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারিত হবে। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইতিমধ্যেই বাহিনীর লজিস্টিক ও সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
৭ জেলা ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত
অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে ঘটে যাওয়া হিংসা ও অশান্তির ঘটনাগুলিকে কেস স্টাডি হিসেবে নিয়ে কমিশন রাজ্যের মোট সাতটি জেলাকে ‘বিশেষ নজরে’ রাখছে। দিল্লি থেকে অবিলম্বে রাজ্যের সমস্ত স্পর্শকাতর বুথ বা পোলিং স্টেশন চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে ৭টি জেলাকে কমিশন বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে সেগুলি হলো:
১. কোচবিহার
২. উত্তর দিনাজপুর
৩. মালদহ
৪. মুর্শিদাবাদ
৫. বীরভূম
৬. উত্তর ২৪ পরগনা
৭. দক্ষিণ ২৪ পরগনা
রাজ্য প্রশাসন এক দফায় ভোটের পক্ষে সওয়াল করলেও, শেষ পর্যন্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাপ্যতাই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট নির্ধারণ করবে। স্পর্শকাতর জেলাগুলির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন কমিশনের পাখির চোখ।














