Yuva Shathi Prakalpa: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যুবসাথী প্রকল্প রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু দেখা গেছে, বহু যোগ্য প্রার্থী শুধুমাত্র ফর্ম ফিলাপের সময় সামান্য কিছু ভুলের কারণে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন জমা দেওয়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে আপনার আবেদনপত্রটি সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে। নিচে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতাগুলি আলোচনা করা হলো।
পেশা ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় সতর্কতা
অনেকেই একটি সাধারণ ভুল করেন, যা হলো পেশার (Occupation) জায়গায় নিজেকে ‘ছাত্র’ বা ‘Student’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া। মনে রাখবেন, এই প্রকল্পটি বেকারদের জন্য। তাই ফর্মে পেশার জায়গায় আপনাকে অবশ্যই ‘Unemployed’ বা ‘বেকার’ লিখতে হবে। ‘ছাত্র’ লিখলে আবেদন বাতিল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে।
পাশাপাশি, শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে আপনি বর্তমানে কী পড়ছেন তা লিখবেন না। আপনার হাতে যে শেষ পরীক্ষার পাসের সার্টিফিকেট আছে, সেটিই আপনার সর্বোচ্চ যোগ্যতা। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি এখন কলেজে পড়েন কিন্তু হাতে পাসের সার্টিফিকেট না থাকে, তবে আপনার যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ হিসেবেই গণ্য হবে।
নাম ও বয়সের হিসাব
আবেদনপত্রে নাম এবং পদবি লেখার সময় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে প্রমাণ হিসেবে ধরতে হবে। বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রেও স্বামীর পদবি ব্যবহার করা যাবে না; মাধ্যমিকের নথিতে যে নাম ছিল, হুবহু তাই লিখতে হবে।
বয়স গণনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের দিকে নজর দিন। তথ্য অনুযায়ী, বয়স হিসাব করতে হবে ১লা এপ্রিল ২০২৬ তারিখের নিরিখে। আবেদন করার দিনের বয়সের হিসাব করলে চলবে না। ওই নির্দিষ্ট তারিখে আপনার বয়স কত হচ্ছে, শুধুমাত্র সেই বছরের সংখ্যাটি উল্লেখ করতে হবে এবং বয়স ন্যূনতম ২১ বছর হতে হবে।
ছবি, স্বাক্ষর ও জাতিগত শংসাপত্র
- ছবি ও সই: ফর্মে ছবি আঠা দিয়ে লাগানোর পর তার ওপর সই করা বাধ্যতামূলক। সইটি এমনভাবে করতে হবে যেন তা ছবির ওপর এবং ফর্মের সাদা অংশ—উভয় জায়গাতেই থাকে (Cross Signature)। শুধুমাত্র ছবি লাগিয়ে সই না করলে ফর্ম গ্রাহ্য হবে না।
- কাস্ট সার্টিফিকেট: আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো এসসি, এসটি বা ওবিসি সার্টিফিকেট না থাকে, তবে নিজেকে ‘জেনারেল’ হিসেবেই দেখান। সার্টিফিকেট ছাড়া সংরক্ষিত ক্যাটাগরিতে টিক দিলে ভেরিফিকেশনের সময় সমস্যা হতে পারে।
ব্যাংক ও অন্যান্য তথ্যাদি
আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকতে হবে। এছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে আধার এবং ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক থাকা আবশ্যিক। যদি আপনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে তা গোপন করবেন না। সঠিক তথ্য দিন, নতুবা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় সমস্ত নথিতে নিজে সই (Self-attested) করতে ভুলবেন না এবং জমা দেওয়ার পর যে রিসিভ কপিটি পাবেন, তাতে যেন অবশ্যই ‘দুয়ারে সরকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ লেখা থাকে তা নিশ্চিত করুন।














