Yuva Sathi Scheme: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘যুবসাথী’ (Yuva Sathi) নামক একটি নতুন জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু করার ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়, যার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের মাসিক ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। যদিও প্রথমে শোনা গিয়েছিল আগস্ট মাস থেকে এই ভাতা মিলবে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি স্পষ্ট করেছেন যে এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে। তবে এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে যোগ্যতা ও শর্তাবলি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতরা এই সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি কর্মীরা কি আবেদনের যোগ্য?
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মহীন বা বেকারদের সহায়তা করা। রাজ্য সরকারের প্রাথমিক গাইডলাইন অনুযায়ী, যাঁদের আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস নেই, কেবল তাঁরাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। যদিও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়ে সরকার এখনও কোনো পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি, তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা:
- স্থায়ী চাকরি ও আয়কর: যাঁরা কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এবং নিয়মিত ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
- আয়ের মাপকাঠি: মোটা অঙ্কের বেতনভুক কর্মীদের এই তালিকায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
- ফ্রিল্যান্সার ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী: তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যাঁদের আয় নির্দিষ্ট নয় অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সার বা স্বল্প আয়ের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা শিথিলতা দেখাতে পারে। মূলত, যাঁদের ‘বেকার’ হিসেবে গণ্য করা যাবে, তাঁরাই অগ্রাধিকার পাবেন।
আবেদনের সময়সীমা ও পদ্ধতি
যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- আবেদনের তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া চলবে।
- কোথায় আবেদন করবেন: রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটিতে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে।
- সময়: প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ক্যাম্পগুলি খোলা থাকবে। এখান থেকেই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।
যোগ্যতা ও শিক্ষাগত মানদণ্ড
এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪১ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর কম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যাবে না।
- অন্যান্য সরকারি প্রকল্প: যাঁরা বর্তমানে রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বা ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন, তাঁরা যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
কারা একই সঙ্গে সুবিধা পাবেন?
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ছাত্রছাত্রীরা বা যুবকরা যাঁরা বিভিন্ন স্কলারশিপ পাচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু এই প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ যাবেন না। অর্থাৎ, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ, ঐক্যশ্রী, শিক্ষাশ্রী বা বিকাশ ভবন স্কলারশিপের সুবিধাভোগীরাও যুবসাথীর মাসিক ১৫০০ টাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
পরিশেষে বলা যায়, এপ্রিল মাস থেকে টাকা দেওয়া শুরু করার ঘোষণা রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে আবেদনের আগে নিজস্ব যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।














